স্বাধীনতার যুদ্ধে তুমি বাংলাদেশী নাকি পাকিস্তানী?

তুমি: ১৯৭১ সালে একটা গৃহযুদ্ধ হয়েছিল, দেশ বিদেশের সবাই তাই বলে। আসলে কোন স্বাধীনতা যুদ্ধ হয় নাই।

আমি: ঠিক আছে মানলাম ঐটা একটা গৃহযুদ্ধ হয়েছিল। দেশ যখন একটাই ছিল। সেই দেশ ছিল পাকিস্তান। দুইপক্ষে যুদ্ধ করছে এক দেশের মধ্যে, কাজেই গৃহযুদ্ধ। কথা সত্য। তাইলে কি এখনও আমরা পাকিস্তান? পুর্বপাকিস্তান? তুমি কি একজন পাকিস্তানী? বলো পাকিস্তান জিন্দাবাদ, বলো, বলো?

তুমি: পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলব কেন? আমি বাংলাদেশী, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলব না।

আমি: দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয় নাই, তুমিই বল্লা। কাজেই আমরা স্বাধীন হই নাই। দেশে গৃহযুদ্ধ হয়েছিল, তার মানে তো আমরা এখনও পাকিস্তান। কাজেই তোমাকে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলতেই হবে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ মুখে বললে তো হবে না, অন্তরে তো তোমার পাকিস্তান। মুখে এক, অন্তরে আরেক, তারে যেন কী বলে?

তুমি: স্বাধীনতার যুদ্ধ হলে পরাজয়ের দলিলে কেন আমরা সই করি নাই। ভারত সই করছে। ঐ যুদ্ধ হইছে ভারতের ষড়যন্ত্র, ওরা পাকিস্তানরে দুইভাগে ভাগ করছে। এই জন্যে যুদ্ধ হইছে।

আমি: যুদ্ধটা ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হইছে, মানলাম। ১৯৭১ সালের ২ই ডিসেম্বর (সম্ভবত) পাকিস্তান ভারতের সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করে। তারপর পূর্ব ও পশ্চিম উভয় প্রান্তে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হয়। কিন্তু একটু আগে যে বললা গৃহযুদ্ধ হইছে। আসলে কোনটা হইছে? তুমি একবার বল গৃহযুদ্ধ, আরেকবার ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ। এক মুখে দুই কথা কেন?

তুমি: পাকিস্তান পরাজয় স্বীকার করছে ভারতের কাছে। দলিলে সই করছে ভারতে কাছে। কাজেই এইটা ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ। এতে ভারতের স্বার্থ আছে। গোলাম আজম বলছে আমরা স্বাধীন হইলে ভারত আমাদের শোষন করবে, এখন তাই করতেছে।

আমি: ওকে, ওকে! তোমারে জন্ম দিছে কে? তোমার বাপ আর মা ঝগড়া কইরা তোমারে দুনিয়াতে আনছে। তারপরে হওনের সময়ে কী যেন ঝামেলায় তোমার মায়েরে হাসপাতালে নিছে। ঐখানে ডাক্তার ব্যাটা একটা হারামজাদা। সে ট্যাকার জন্য পেট কেটে তোমারে দুনিয়াতে আনছে। হেরপরে হেতে তোমার জন্ম সনদ দিছে একটা। তোমারে জন্ম কে দিছে, তোমার বাপ মায় নাকি তোমার ডাক্তার? তোমার জন্ম সনদে তোমার বাপ মায়ের স্বাক্ষর নাই। স্বাক্ষর দেখা যায় ডাক্তারের, যে একটা হারাম জাদা, নিজের স্বার্থের জন্য কয়েকটা টাকার জন্য তোমারে জন্ম দিল। হের পরে হের আরো স্বার্থ আছে কইলাম। তুমি বড় হইবা, তোমার সর্দি হইব, জ্বর হইব, র‍্যাশ উঠব, কারনে সেকারনে ডাক্তরের কাছে যাইবা, খালি টেকায় টেকা। এই সুযোগ কি ডাক্তার ছাড়ে। এখন বল তোমারে জন্ম দিছে কে? বাপ-মা নাকি ডাক্তার?

তুমি: নিশ্চুপ।

আমি: শোন তোমার যখন জন্ম হইছে, তখন তোমার বাপ-মা পাইছে একটা সন্তান, তোমার মামা-চাচারা পাইছে একটা ভাগ্নে ভাস্তে, তোমার দাদা-নানারা পাইছে একটা নাতি। তোমার মায়ের হইছে আসল প্রসব বেদনা। তোমার অার আত্নীয়স্বজনদের বেদনা হইছে তাদের মনে। তোমার ডাক্তারের হইছে অপারেশন করার কষ্ট। এখন তুমি এইটারে কি কইবা, তোমার জন্ম একটা প্রসব ঘটনা, নাকি শুধু মনের যাতনা, নাকি একটা অপারেশন? তুমি যেই পক্ষের তুমি তাই কইবা। তোমার মায়ে গল্প করলে কইব প্রসব বেদনার কথা। তোমার আত্নীয়স্বজনরা গল্প করলে কইব তারা কেমনে হাসপাতালে দৌড়াইছে, বাইরে দাঁড়াইয়া থাকছে, কেমনে ওষুধ কিনতে দোকানে দৌড়াইছে। তোমার ডাক্তার কইব হ্যায় কেমনে অপারেশ করছে, কেমনে ব্লেড এর ফাঁক দেয়া মাত্র প্রথমে সাদা চর্বি বের হয়ে আসল, তারপর রক্তে সেটা লাল হয়ে উঠল, ইত্যাদি।

তুমি: নিশ্চুপ।

আমি: তুমি কিন্তু বাংলাদেশী না। বাংলাদেশী হইলে তুমি কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা কইবা। কিন্তু তুমি স্বাধীনতার কথা কইতেছ না। তুমি কইতেছ গৃহযুদ্ধের কথা, তুমি কইতেছ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কথা। তোমার পক্ষ আসলে পাকিস্তান। ১৯৭১ এ তোমার জয় হয় নাই, পরাজয় হয়েছে। তুমি পাকিস্তানী।

মন্তব্য

টি মন্তব্য

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *